SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল
উদ্দীপক
মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে।
Dinajpur · 2023
ক
কমনওয়েলথ প্রধান কে?
উত্তর
কমনওয়েলথ প্রধান হলেন বৃটেনের রাজা বা রাণী।
খ
অছি এলাকা কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
বিশ্বে যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাকে অছি এলাকা বলে।
অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। অছি এলাকার ওপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত।
গ
মি. আজিজ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে কর্মরত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
মি. আজিজ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে কর্মরত।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কোথাও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
উদ্দীপকের মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরূপ বর্ণনায় সহজেই অনুমান করা যায় মি. আজিজ জাতিসংঘের অধীনে কর্মরত ছিলেন। কেননা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে সারাবিশ্বের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষার নিমিত্তে শান্তিরক্ষী বাহিনী কাজ করে থাকে। আর এ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
ঘ
মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব তার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব সেটি হলো কমনওয়েলথ। কমনওয়েলথ-এর সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে।
কমনওয়েলথের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৩। কমনওয়েলথ স্বাধীন উপনিবেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা।
উদ্দীপকের মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে। এরূপ বর্ণনায় কমনওয়েলথের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। আর কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশ সৃষ্টির শুরু থেকেই কমনওয়েলথের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কমনওয়েলথের মূল উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছিল। সেখানে গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সাহায্য তহবিল। কমনওয়েলথ ও এর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কলম্বো পরিকল্পনার সদস্য। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
আলোচনা থেকে এটি তাই স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে। আর সদস্যপদ প্রাপ্তির আগে এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। তাই কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো