পাঠ্যসূচি বহির্ভূত পৌরনীতি ও নাগরিকতা

SSC পৌরনীতি ও নাগরিকতা এর পাঠ্যসূচি বহির্ভূত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৫৬

প্রশ্ন

পৌরনীতি ও নাগরিকতা

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে।

Dinajpur · 2023

ক
কমনওয়েলথ প্রধান কে?

উত্তর

কমনওয়েলথ প্রধান হলেন বৃটেনের রাজা বা রাণী।
খ
অছি এলাকা কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বিশ্বে যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। অছি এলাকার ওপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত।
গ
মি. আজিজ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে কর্মরত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মি. আজিজ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে কর্মরত। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কোথাও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে। উদ্দীপকের মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরূপ বর্ণনায় সহজেই অনুমান করা যায় মি. আজিজ জাতিসংঘের অধীনে কর্মরত ছিলেন। কেননা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে সারাবিশ্বের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষার নিমিত্তে শান্তিরক্ষী বাহিনী কাজ করে থাকে। আর এ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
ঘ
মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব তার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব সেটি হলো কমনওয়েলথ। কমনওয়েলথ-এর সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। কমনওয়েলথের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৩। কমনওয়েলথ স্বাধীন উপনিবেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা। উদ্দীপকের মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে। এরূপ বর্ণনায় কমনওয়েলথের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। আর কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশ সৃষ্টির শুরু থেকেই কমনওয়েলথের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কমনওয়েলথের মূল উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছিল। সেখানে গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সাহায্য তহবিল। কমনওয়েলথ ও এর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কলম্বো পরিকল্পনার সদস্য। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। আলোচনা থেকে এটি তাই স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে। আর সদস্যপদ প্রাপ্তির আগে এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। তাই কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে।

Dinajpur · 2023

ক
কমনওয়েলথ প্রধান কে?

উত্তর

কমনওয়েলথ প্রধান হলেন বৃটেনের রাজা বা রাণী।
খ
অছি এলাকা কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

বিশ্বে যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। অছি এলাকার ওপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত।
গ
মি. আজিজ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে কর্মরত? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মি. আজিজ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে কর্মরত। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কোথাও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে। উদ্দীপকের মি. আজিজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০১৫ সালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীনে গোলযোগপূর্ণ সুদানে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরূপ বর্ণনায় সহজেই অনুমান করা যায় মি. আজিজ জাতিসংঘের অধীনে কর্মরত ছিলেন। কেননা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে সারাবিশ্বের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষার নিমিত্তে শান্তিরক্ষী বাহিনী কাজ করে থাকে। আর এ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
ঘ
মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব তার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

মি. জহির যে আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব সেটি হলো কমনওয়েলথ। কমনওয়েলথ-এর সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। কমনওয়েলথের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৩। কমনওয়েলথ স্বাধীন উপনিবেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা। উদ্দীপকের মি. জহির বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করেছে। এরূপ বর্ণনায় কমনওয়েলথের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। আর কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশ সৃষ্টির শুরু থেকেই কমনওয়েলথের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। কমনওয়েলথের মূল উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছিল। সেখানে গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সাহায্য তহবিল। কমনওয়েলথ ও এর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কলম্বো পরিকল্পনার সদস্য। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। আলোচনা থেকে এটি তাই স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সর্বপ্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে। আর সদস্যপদ প্রাপ্তির আগে এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। তাই কমনওয়েলথের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

হামিদ সাহেব 'সন্তোশপুর' গ্রামের একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। একসময় জনগণের দুঃখ লাঘবের আশায় তিনি বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব বার্ষিক কাউন্সিলর অধিবেশনে পেশ করেন।

Dinajpur · 2023

ক
লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?

উত্তর

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক।
খ
দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

দ্বিজাতি তত্ত্বকে আমরা দুটি জাতি সৃষ্টির প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করতে পারি। ব্রিটিশ শাসন আমলেই অবিভক্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বশাসনের চেতনা জাগ্রত হয়। আর এক্ষেত্রে মুসলিম স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কথিত একটি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের মুসলমানদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এ তত্ত্বের নাম হচ্ছে "দ্বিজাতি তত্ত্ব”।
গ
হামিদ সাহেবের দাবিটি ঐতিহাসিক কোন প্রস্তাবকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

হামিদ সাহেবের দাবিটি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার সংবলিত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উপস্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। উদ্দীপকের হামিদ সাহেব 'সন্তোশপুর' গ্রামের একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। একসময় জনগণের দুঃখ লাঘবের আশায় তিনি বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে পেশ করেন। এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবির সাদৃশ্য পাওয়া যায়। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে বাঙালিকে রক্ষার আশায় ৬টি দাবি সংবলিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
ঘ
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, "ঐ প্রস্তাবেই ৭১-এর স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ঐ প্রস্তাবেই তথা ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির মাঝেই ৭১-এর স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। মন্তব্যটি যথার্থ। ৬ দফা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিপক্ক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচায়ক। মূলত এ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালির জাতীয় নেতায় পরিণত হন। উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পেশকৃত ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির জাতীয় মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা'। কার্যত এ ৬ দফার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানি ধাঁচের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙ্গে বাঙালির জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য স্থির হয়। ৬ দফায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। জেনারেল আইয়ুব ৬ দফাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' 'বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠার' কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তা নস্যাৎ করতে যেকোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনা-মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। যার ফলশ্রুতিতে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে বিজয় ও '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬ দফায় বাঙালির স্বায়ত্বশাসনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ পায়। সুতরাং যৌক্তিকভাবেই একথা বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশকৃত ছয়দফা দাবির মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

হামিদ সাহেব 'সন্তোশপুর' গ্রামের একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। একসময় জনগণের দুঃখ লাঘবের আশায় তিনি বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব বার্ষিক কাউন্সিলর অধিবেশনে পেশ করেন।

Dinajpur · 2023

ক
লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?

উত্তর

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক।
খ
দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর

দ্বিজাতি তত্ত্বকে আমরা দুটি জাতি সৃষ্টির প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করতে পারি। ব্রিটিশ শাসন আমলেই অবিভক্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বশাসনের চেতনা জাগ্রত হয়। আর এক্ষেত্রে মুসলিম স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কথিত একটি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের মুসলমানদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এ তত্ত্বের নাম হচ্ছে "দ্বিজাতি তত্ত্ব”।
গ
হামিদ সাহেবের দাবিটি ঐতিহাসিক কোন প্রস্তাবকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

হামিদ সাহেবের দাবিটি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার সংবলিত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উপস্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। উদ্দীপকের হামিদ সাহেব 'সন্তোশপুর' গ্রামের একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। একসময় জনগণের দুঃখ লাঘবের আশায় তিনি বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে পেশ করেন। এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবির সাদৃশ্য পাওয়া যায়। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে বাঙালিকে রক্ষার আশায় ৬টি দাবি সংবলিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
ঘ
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, "ঐ প্রস্তাবেই ৭১-এর স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ঐ প্রস্তাবেই তথা ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির মাঝেই ৭১-এর স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। মন্তব্যটি যথার্থ। ৬ দফা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিপক্ক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচায়ক। মূলত এ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালির জাতীয় নেতায় পরিণত হন। উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পেশকৃত ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উপস্থাপিত ৬ দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির জাতীয় মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা'। কার্যত এ ৬ দফার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানি ধাঁচের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙ্গে বাঙালির জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য স্থির হয়। ৬ দফায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। জেনারেল আইয়ুব ৬ দফাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' 'বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠার' কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তা নস্যাৎ করতে যেকোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনা-মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। যার ফলশ্রুতিতে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে বিজয় ও '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬ দফায় বাঙালির স্বায়ত্বশাসনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ পায়। সুতরাং যৌক্তিকভাবেই একথা বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশকৃত ছয়দফা দাবির মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' সংস্থার সভাপতি সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে তিনি সংস্থা পরিচালনা করেন। তার নামে সংস্থা পরিচালিত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদক সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান। তিনি সদস্যদের মাঝে কাজ বণ্টন করে দেন এবং তাদের কাজের তদারকি করেন। তিনিই সংস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি পদত্যাগ করলে সংস্থাটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

Dinajpur · 2023

ক
বাংলাদেশে কোন পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?

উত্তর

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
খ
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যে রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয় তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে। এককেন্দ্রিক সরকারের সংগঠন সরল প্রকৃতির। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। এতে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের ঝামেলা নেই। যেকোনো সিদ্ধান্ত খুব সহজেই সমগ্র দেশে বাস্তবায়ন করা যায়। এককেন্দ্রিক সরকারের মধ্যে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় থাকে। এককেন্দ্রিক সরকারে প্রশাসনিক ব্যয় কম হয়। এ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। বাংলাদেশ, জাপান প্রভৃতি এককেন্দ্রিক সরকার দ্বারা পরিচালিত।
গ
'ক' সংস্থার সভাপতির সাথে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার কার কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'ক' সংস্থার সভাপতির সাথে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতির কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি রাষ্ট্রের জন্য অনেক কাজ করে থাকেন। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারের সকল শাসনসংক্রান্ত কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা যেমন- মহাহিসাবরক্ষক, রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করেন। উদ্দীপকের 'ক' সংস্থার সভাপতি সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে তিনি সংস্থা পরিচালনা করেন। তার নামে সংস্থা পরিচালিত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রধান। এসব তথ্যগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ করে। তিনি প্রজাতন্ত্রের জন্য নানাবিধ কাজ করে থাকেন। তিনি সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোনো বিলে সম্মতি দান করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থবিল সংসদে উপস্থাপন করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, আপিল ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। তিনি জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বরেণ্য ব্যক্তিদের খেতাব, পদক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি। এভাবে রাষ্ট্রপতি নানাবিধ কাজ সম্পাদন করে থাকেন।
ঘ
'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজের অনুরূপ। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার স্তস্বরূপ। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত ক্ষমতাধর। তিনি একই সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ও মন্ত্রীসভার হৃৎপিণ্ড। তাঁর আদেশ মতোই পুরো প্রশাসন পরিচালিত হয়। তিনি মন্ত্রীপরিষদের সংখ্যা নির্ধারণ, দায়িত্ববণ্টন ও তাদের কাজের তদারকি করেন। উদ্দীপকের 'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান। তিনি সদস্যদের মাঝে কাজ বণ্টন ও তাদের কাজের তদারকি করেন। সংস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তিনি পদত্যাগ করলে সংস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরূপ তথ্যগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করে। তিনি বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। কেননা, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নামে দেশের শাসন পরিচালিত হলেও আসলে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন। তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা গঠিত, পরিচালিত ও বিলুপ্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সংসদে আইন প্রণয়ন করা হয়। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থের রক্ষক। জাতীয় স্বার্থে তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা ও বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন ও জনগণের মধ্যে সংহতি রক্ষায় কাজ করেন। আলোচনার পরিশেষে তাই এটি স্পষ্ট হয়, প্রধানমন্ত্রী হলেন সংসদীয় সরকারব্যবস্থার প্রকৃত শাসক। তাঁকে কেন্দ্র করে দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয় বলে তাকে শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি বলাই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCপৌরনীতি ও নাগরিকতাসৃজনশীল

উদ্দীপক

'ক' সংস্থার সভাপতি সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে তিনি সংস্থা পরিচালনা করেন। তার নামে সংস্থা পরিচালিত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদক সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান। তিনি সদস্যদের মাঝে কাজ বণ্টন করে দেন এবং তাদের কাজের তদারকি করেন। তিনিই সংস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি পদত্যাগ করলে সংস্থাটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

Dinajpur · 2023

ক
বাংলাদেশে কোন পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?

উত্তর

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
খ
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

যে রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয় তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে। এককেন্দ্রিক সরকারের সংগঠন সরল প্রকৃতির। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। এতে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের ঝামেলা নেই। যেকোনো সিদ্ধান্ত খুব সহজেই সমগ্র দেশে বাস্তবায়ন করা যায়। এককেন্দ্রিক সরকারের মধ্যে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় থাকে। এককেন্দ্রিক সরকারে প্রশাসনিক ব্যয় কম হয়। এ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। বাংলাদেশ, জাপান প্রভৃতি এককেন্দ্রিক সরকার দ্বারা পরিচালিত।
গ
'ক' সংস্থার সভাপতির সাথে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার কার কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'ক' সংস্থার সভাপতির সাথে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতির কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি রাষ্ট্রের জন্য অনেক কাজ করে থাকেন। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারের সকল শাসনসংক্রান্ত কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা যেমন- মহাহিসাবরক্ষক, রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করেন। উদ্দীপকের 'ক' সংস্থার সভাপতি সংস্থাটির প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে তিনি সংস্থা পরিচালনা করেন। তার নামে সংস্থা পরিচালিত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রধান। এসব তথ্যগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ করে। তিনি প্রজাতন্ত্রের জন্য নানাবিধ কাজ করে থাকেন। তিনি সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোনো বিলে সম্মতি দান করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থবিল সংসদে উপস্থাপন করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, আপিল ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। তিনি জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বরেণ্য ব্যক্তিদের খেতাব, পদক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি। এভাবে রাষ্ট্রপতি নানাবিধ কাজ সম্পাদন করে থাকেন।
ঘ
'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজের অনুরূপ। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার স্তস্বরূপ। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত ক্ষমতাধর। তিনি একই সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ও মন্ত্রীসভার হৃৎপিণ্ড। তাঁর আদেশ মতোই পুরো প্রশাসন পরিচালিত হয়। তিনি মন্ত্রীপরিষদের সংখ্যা নির্ধারণ, দায়িত্ববণ্টন ও তাদের কাজের তদারকি করেন। উদ্দীপকের 'ক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান। তিনি সদস্যদের মাঝে কাজ বণ্টন ও তাদের কাজের তদারকি করেন। সংস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তিনি পদত্যাগ করলে সংস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরূপ তথ্যগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করে। তিনি বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। কেননা, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নামে দেশের শাসন পরিচালিত হলেও আসলে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন। তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা গঠিত, পরিচালিত ও বিলুপ্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সংসদে আইন প্রণয়ন করা হয়। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থের রক্ষক। জাতীয় স্বার্থে তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা ও বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন ও জনগণের মধ্যে সংহতি রক্ষায় কাজ করেন। আলোচনার পরিশেষে তাই এটি স্পষ্ট হয়, প্রধানমন্ত্রী হলেন সংসদীয় সরকারব্যবস্থার প্রকৃত শাসক। তাঁকে কেন্দ্র করে দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয় বলে তাকে শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি বলাই যুক্তিযুক্ত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো