উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আজ স্বীকৃত- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা ছিল সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা। এক পরিসংখ্যান অনুসারে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। ফলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে শহীদ হন আব্দুস সালাম, রফিক উদ্দিন, আবদুল বরকতসহ অনেকেই। তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেযা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে মাতৃভাষার চিরন্তন আবেদনকে বিশ্ববাসী স্বীকার করে নেয়। UNESCO এর ঘোষণায় বলা হয়- "21 February is proclaimed International Mother Language Day throughout the world to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this day in 1952" ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে পালিত হয়ে আসছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, ভাষা আন্দোলন আজ জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত।