উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
পাকিস্তান সৃষ্টি আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলা-উর্দু ভাষা বিতর্ক শুরু . হয়। ১৯৪৭ সালে চৌধুরি খালীকুজ্জামান এবং ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ .. উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় একইভাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ছাত্র-শিক্ষকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষী হওয়াতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে শহরে-বন্দরে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ শামিল হয়। শিল্প, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলও বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া বাংলা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালে মহীরুহে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে, ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিল নিয়ে বের হলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক, জব্বার, বরকত, সালামস্হ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে রচনা করা হয়
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
২১ ফেব্রুয়ারি ldots