বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এ চেতনা ১৯৬২ সালে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা বাঙালি জনগণকে উজ্জীবিত করে।১৯৫২ সালের বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনায় চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এর ফলে বাংলাদেশেই সম্ভবত বিশ্বে প্রথম জাতিরাষ্ট্র যা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাগ্রত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে।