উক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড অর্থাৎ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডই তার পতনের জন্য দায়ী ছিল। – উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করেন। মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র। এতে কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল। মূলত আইয়ুব খানের 'মৌলিক 'গণতন্ত্র' না ছিল মৌলিক, না ছিল 'গণতন্ত্র'। ১৯৬০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য যে রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হয় তাতে মৌলিক গণতন্ত্রীরা আইয়ুব খানের সপক্ষে রায় দেয়। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক জনগণ মৌলিক গণতন্ত্রী কর্তৃক একচেটিয়া নির্বাচনি অধিকার প্রয়োগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। যার ফলে ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। মৌলিক গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠান হিসেবে শুধু যে আইয়ুব সরকারকে বৈধতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়; বরং ১৯৬৯ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের পতনের পর নিজস্ব বৈধতাও হারিয়ে ফেলে।
অতএব বলা যায়, জেনারেল আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডই তার পতনের জন্য দায়ী ছিল।