উদ্দীপকের ছবি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে ৷
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০ শতাংশের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয় শাসকগোষ্ঠী। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের বাঙালি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় । সারাদেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার প্রমুখ শহিদ হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদদের নিহত হওয়ার স্থানে ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ বা শহিদ মিনার নির্মাণ করে। কিন্তু পুলিশ শহিদ মিনারটি ভেঙে দেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বর্তমান শহিদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। এই শহিদ মিনার বাঙালি জাতিকে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় ।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার । এই শহিদ মিনার সৃষ্টির পেছনে রয়েছে বাঙালি জাতির মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য 'আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।