উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি আমার পাঠ্যবইয়ের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অধিকারকে অবজ্ঞা করে আসছিল। বাঙালিরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতো। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। আর ৩.২৭% মানুষের মুখের ভাষা উর্দু। তারপরও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা পাশ কাটিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার অপতৎপরতা চালায়। ১৯৪৮ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা সফরে আসেন। ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ জোর দিয়ে বলে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা। ফলে উপস্থিত ছাত্রজনতা না না ধ্বনিতে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাঙালিরা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। একপর্যায়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি আমার পাঠ্যবইয়ের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।