১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট (আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, গণতান্ত্রিক দল, নেজামে ইসলাম ও খিলাফতে রব্বানি) পাকিস্তানের মুসলিম লীগকে পরাজিত করে।।যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-১. ভাষা আন্দোলনের প্রভাব: ১৯৫২ সালে মুসলিম লীগ সরকার ভাষা আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালায়। এর ফলে বাঙালি জাতি তীব্র ঘৃণার সহিত মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে। এই আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ প্রকাশ ঘটে, ফলে তারা যুক্তফ্রন্টকে সমর্থন করে।২. ২১ দফা কর্মসূচি: যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচিতে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি ছিল। এর জন্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
৩. মুসলিম লীগের প্রতি জনগণের ক্ষোভ: মুসলিম লীগ সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারি হয়ে ওঠে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নের পরিবর্তে পশ্চিম পাকিস্তানে উন্নয়ন করে। ফলে জনগণ তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে।৪. নেতৃত্বের গুণাবলি: যুক্তফ্রন্টের নেতারা ছিলেন যোগ্য এবং সৎ সাহসী। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও সোহ্রাওয়ার্দীর মতো জনপ্রিয় সব নেতাদের ফলে যুক্তফ্রন্ট ব্যাপক সাড়া পায়।৫. পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতি: পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি করে। এতে পাকিস্তানি শাসকদের প্রতি বাঙালিদের অসন্তোষ বৃদ্ধি করে।উপরোক্ত কারণে যুক্তফ্রন্ট ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সমর্থন লাভ করে। যার ফলে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩ আসনে জয়লাভ করে।