উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ।
উদ্দীপকে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ দুটি ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক দল প্ৰথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একসাথে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছিল। এই আন্দোলনে প্রথমে মুসলিমরা তুর্কি সম্রাজ্য রক্ষার জন্য খেলাফত আন্দোলন শুরু করেছিল । যা পরবর্তীতে অসহযোগ আন্দোলনের রূপ নেয়। এতে দুই পৃথক ধারার রাজনৈতিক দল তথা মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস একত্রিত হয়।
খেলাফত আন্দোলন ছিল বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খেলাফত রক্ষার আন্দোলন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে তার মিত্র, তুরস্কের ভূখণ্ড ব্রিটেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ভাগাভাগি করে নেয়। তুরস্ক তখন ছিল ইসলামের খেলাফতের ধারক। বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের কারণে তুরস্কের খিলাফতের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মুসলিমরা খিলাফতের অস্তিত্ব রক্ষায় ঐ আন্দোলন করে। ১৯২০ সালের জুন মাসে খিলাফত কমিটির আহ্বানে এলাহাবাদে
এক সভায় সরকারের সাথে অসহযোগিতার কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। অপরদিকে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনও ছিল সরকারবিরোধী। মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থনের প্রত্যাশায় গান্ধী খিলাফত আন্দোলনে যোগ দেন ।
খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি একই রকম ছিল। উভয় কর্মসূচিতেই ইংল্যান্ডে তৈরি পণ্য বর্জন করা হয়েছিল। দুই আন্দোলনেই জনগণকে দেশীয় পণ্যসামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। তবে খিলাফত আন্দোলন মাওলানা মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী ও আবুল কালামের নেতৃত্বে চললেও অসহযোগ আন্দোলন শুধু গান্ধীজির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল। আর খেলাফত আন্দোলন শুধু মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত হলেও অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান সবার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সর্বোপরি খেলাফত আন্দোলন ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে পরিচালিত হয়েছিল, কিন্তু অসহযোগ আন্দোলন ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন । সুতরাং দেখা যায়, খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে মিল-অমিল উভয়ই ছিল । এই দুই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতে হিন্দু- মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছিল ।