জনাব আবুল বাসার সাহেবের সাথে হাজি মুহম্মদ মুহসীনের কর্মের মিল রয়েছে।
হাজি মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন একজন জনহিতৈষী দানবীর। তিনি ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার এক সম্ভ্রান্ত ঐশ্বর্যশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার। পিতৃসম্পত্তি ও পরলোকগত বোন মন্নুজানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে তিনি প্রচুর ঐশ্বর্যের মালিক হন। বাংলার দরিদ্র মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও তাদের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিপুল সম্পত্তি যুক্ত হস্তে দান করেছেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের জন্য তিনি দান করেছেন তার ঐশ্বর্য। দানশীলতার জন্য তিনি 'দানবীর' ও বাংলার 'হাতেমতাই' নামে সুপরিচিত। সমাজের জনহিতকর কাজে তিনি সমস্ত সম্পত্তি ব্যয় করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইমামবাড়া তার জনহিতকর কার্যাবলির অন্যতম নিদর্শন। মুহসিন তাঁর সমুদয় অর্থ শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয় করেন। তিনি হুগলিতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানের মাদরাসার উন্নতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থ দান করেন।
উদ্দীপকের আবুল বাসার সাহেব পৈত্রিক ও বোনের সূত্রে বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। এ সম্পন্ন তিনি নিজে ভোগ না করে ৯টি অংশে বিভক্ত করে ইসলামের সেবায় তিনটি, দাতব্য কাজের জন্য চারটি অংশ রাখেন। বাকি দুইটি অংশ মুতাওয়াল্লিদের বেতন-ভাতাদি দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করেন। এছাড়া মানুষের কল্যাণে বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লেখিত বাসার সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে হাজি মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।