উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ব্রিটিশ সরকারের ভাইসরয় হিসেবে ১৯৪৭ সালের জুন মাসে ভারতবর্ষের সকল নেতাদের দেশবিভাগের ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এসময় হেরু ও জিন্নাহ মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে রেডিওতে বক্তৃতা করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হবে। মাউন্টব্যাটেন ১৪ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে পাকিস্তান সৃষ্টিকে একটি 'ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৫ আগস্ট নেহেরু ভারতীয় বিধান সভার উদ্দেশ্যে এক ভাষণে ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এদিন স্বাধীনতা ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে ভারতবর্ষের ইতিহাসে ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটে এবং বিশ্ব মানচিত্রে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাজ্যকে প্রায় ২০০ বছর শাসন করার পর জনৈক শাসকগোষ্ঠী এক আইনের মাধ্যমে দুই ভাগে ভাগ করতে বাধ্য হয়। ভাগ দুটি হয় মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দুটি রাষ্ট্র আলাদা হয়ে গেলেও মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন চলতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।