উক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ স্যার সৈয়দ আহমদ খান পাশ্চাত্য শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ।
ব্রিটিশশাসিত ভারতে যেসব মনীষী ও সমাজ সংস্কারক পশ্চাৎপদ মুসলমানদের অজ্ঞতা, সামাজিক শোষণ ও রাজনৈতিক বঞ্চনা থেকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাদের মধ্যে স্যার সৈয়দ আহমদ খান অন্যতম প্রধান। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রগতিশীল ভাবধারা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি আলীগড় আন্দোলনের সূচনা করেন। ১৮৬৪ সালে, তিনি 'অনুবাদ সমিতি' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থাবলি অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। এটি পরবর্তীকালে সাহিত্য ও বিজ্ঞান পরিষদ' নামে পরিচিত হয়। সংগঠনটি মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক পাশ্চত্য শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল। এছাড়া ১৮৭০ সালে তাহযিব উল-আখলাক পত্রিকা, ১৮৭৫ সালে মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ, ১৮৭৭ সালে আলীগড় কলেজ এবং ১৮৮৬ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সৈয়দ আহমদ মুসলিম সমাজের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তার, উদার নৈতিক মনোভাবের চর্চা ও কুসংস্কার দূর করায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, স্যার সৈয়দ আহমদ খান উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। এর মধ্য দিয়ে মুসলমানরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করে ব্রিটিশবিরোধী চিন্তাভাবনা থেকে নিজেদের মুক্ত করার প্রয়াস পায় এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রাজনীতির জগতে প্রবেশ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।