হ্যাঁ, আমি একমত যে, উক্ত ঘটনা তথা বঙ্গভঙ্গ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তকে মুসলমানগণ স্বাগত জানালেও হিন্দু সম্প্রদায় ও কংগ্রেস এর বিরোধিতায় সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলে, যা মুসলমান নেতৃবৃন্দকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে। এ ঘটনায় মুসলমানরা, বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গের পক্ষের নেতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ এবং নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী জাতীয় কংগ্রেসের বিপরীতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে উপলব্ধি করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারার সূচনা করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্যার সৈয়দ আহমদ খানসহ বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছিলেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক দল হলেও মূলত হিন্দুদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি মনোযোগী ছিল। ফলে ১৯০৬ সালে ৩৫ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় ইংরেজ ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই বছর ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় 'মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স'-এর বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের শেষ দিনে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসলিম প্রতিনিধিগণ 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' নামে মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তবে ভারতীয় কংগ্রেসের সদস্যরা এর বিরোধিতা করে ।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই অনিবার্যতা থেকেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।