হ্যাঁ আমি মনে করি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য 'ভারত বিভাগ' সম্ভব হয়েছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি, ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেছিলেন যে, ব্রিটিশ সরকার সর্বশেষ ৩০ জুন ১৯৪৮ সালের মধ্যে ব্রিটিশ ভারতকে পূর্ণ স্ব-শাসন প্রদান করবে। তিনি লর্ড ওয়েডেলের জায়গায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে নিয়োগের ঘোষণাও করেছিলেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২ জুন নেহেরু, জিন্নাহ ও শিখ নেতা বলদেব শিং এর সাথে এক ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ পরিকল্পনা তিনি ১৯৪৭ সালের ৩ জুন জনগণের সামনে তুলে ধরেন। এটিই 'মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা' নামে খ্যাত। মাউন্টব্যাটেন যেসব পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন তা নিচে দেওয়া হলো-
১. ভারতীয় জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংবিধান রচনার দায়িত্ব পালন করবে।
২. যেসব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ গণপরিষদে যোগ দেবে না, তারা নিজেদের জন্য সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে পৃথক গণপরিষদ গঠন করতে পারবে।
বর্তমান গণপরিষদ কাজ চালিয়ে যাবে। তবে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ যদি ইচ্ছা করে তবে গণপরিষদে প্রণীত বিধান তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে অথবা হবে না ।
৪. বাংলা ও পাঞ্জাব 'পাকিস্তান' কিংবা ভারতীয় ইউনিয়নে' যোগ দেওয়া প্রশ্নে বিভক্ত হবে কি না তা ভোটের মাধ্যমে ঠিক করা হবে।
৫. বাংলা ও পাঞ্জাব যদি বিভক্ত হয়, তবে নতুন করে এসব প্রদেশের সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি সীমানা কমিশন গঠন করা হবে ।
৬. বাংলা বিভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে আসামের সিলেট জেলা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান প্রদেশের সাথে মিলিত হবে কিনা এজন্য 'গণভোট' অনুষ্ঠিত হবে।
৭. সিন্ধু প্রদেশ ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেবে কি না, তা সে প্রদেশের আইনসভা সিদ্ধান্ত নেবে।
৮. উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেবে তা সে প্রদেশের আইনসভা সিদ্ধান্ত নেবে ।
৯. এ পরিকল্পনা ব্রিটিশ ভারতীয় দেশীয় রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। দেশীয় রাজ্যগুলোর প্রতি ব্রিটিশ সরকারের পূর্ব ঘোষিত নীতি বহাল থাকবে ।
১০. এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এ বছরই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন পাস হবে।
লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনার আলোকে ভারত স্বাধীনতা আইনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ১৪ ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ।
সুতরাং বলা যায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য 'ভারত বিভাগ' সম্ভব হয়েছিল।