হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত বিষয় অর্থাৎ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের বীজ নিহিত ছিল ।
লাহোর প্রস্তাব উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষাগত পার্থক্য ও কৃষ্টির পার্থক্যহেতু দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিন্নাহ ও গান্ধীর মধ্যে যে পত্রালাপ হয় সেখানে জিন্নাহ একাধিক রাষ্ট্রের কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করেন। একাধিক রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি অনেক বাদানুবাদ হওয়া সত্ত্বেও মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লিতে আইনসভার মুসলিম লীগ সদস্যদের একটি বিশেষ সভায় মিলিত হয়ে একাধিক রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট মূল প্রস্তাবে উল্লেখ না থাকলেও পাকিস্তান নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র জন্মলাভ করে।
অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, লাহোর প্রস্তাবের আলোকে ১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয় । সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, লাহোর প্রস্তাব যা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ উত্থাপিত হয় তা ছিল ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব।