না, উদ্দীপকের দাদুর বর্ণিত অর্থনৈতিক কারণেই বঙ্গভঙ্গ হয়নি । ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের পশ্চাতে মূলত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণই ছিল মুখ্য।
১. প্রশাসনিক কারণ : বঙ্গকে বিভক্ত করার প্রশাসনিক যুক্তি দেখিয়ে ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লেখেন, বঙ্গ প্রদেশের আয়তন ২,০০,০০০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ। এ বিশাল আয়তন এবং বিপুল জনসংখা -অধ্যুষিত বাংলাকে একজন প্রশাসকের পক্ষে সুচারুরূপে শাসন করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে, প্রতিবেশী আসাম প্রদেশ ছিল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং জনসংখ্যাও ছিল কম। এজন্য বাংলাকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশের সৃষ্টি করা হয়- যার রাজধানী হয় প্রাচীন শহর ঢাকা।
২. রাজনৈতিক কারণ : বাংলাকে বিভক্ত করার পশ্চাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল রাজনৈতিক। রাজনৈতিক কারণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-
ক. জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ : ১৮৮৫ সালে ভারতদরদি ইংরেজ স্যার অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউমের নিরলস প্রচেষ্টায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ভারতের হিন্দু সমাজ সচেতন হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে ব্রিটিশ সরকার হতচকিত হয়ে প্রশাসনিক সংকটে পড়ে যায়। এরূপ জাতীয়তাবাদী চেতনা ও সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
খ. ভাগ কর ও শাসন কর : ব্রিটিশ সরকার Divide and Rule নীতিতে বিশ্বাসী। তাই বাংলাকে বিভক্ত করে একটি সম্প্রদায়কে নিজেদের অনুকূলে রেখে অপর সম্প্রদায়কে শাসন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
গ. মুসলমানদের উন্নতি সাধনের প্রয়াস : অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলমান সামন্তশ্রেণি মুসলমানদের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। অপরদিকে স্যার সৈয়দ আহমদ আলীগড় আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমানদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ফলে ব্রিটিশ সরকার তাদের স্বার্থ সম্বন্ধে সচেতন হয়ে ওঠে।
উপর্যুক্ত কারণগুলো ছাড়াও আরও কতিপয় কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ করেছিল।