উক্ত আন্দোলনের তথা ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত - নিম্নে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো: পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বিভিন্নভাবে বাংলার উপর শোষণ চালিয়ে যাচ্ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। সমগ্র পাকিস্তানের প্রায় ৫৬ ভাগ মানুষ বাংলা কথা বললেও তারা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিতে নারাজ হয়েছিল। এতে করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার আপামর সাধারণ জনতা। দেশের মানুষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঐক্যে সম্মিলিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ভাষার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা আন্দোলন শুরু করলে পুলিশ আন্দোলনে গুলি চালায়। এতে জব্বার, রফিক, সালাম, বরকত আরো অনেকে শহীদ হন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫২ সালের পর থেকে শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারপর পরবর্তী বছর তথা ২০০০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে এ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো যথাযথ মর্যাদায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃত - উক্তিটি যথার্থ।