খিলাফত আন্দোলন যা ভারতীয় মুসলিম আন্দোলন (১৯১৯-১৯২৪) নামেও পরিচিত। নিচে উক্ত আন্দোলনের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলোঃপ্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় এবং সেভার্স চুক্তির (আগস্ট ১০, ১৯২০) অধীনে তুরস্কের ভূখন্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ায় ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতে আশংকা দেখা দেয়। এ কারণে তুর্কি খিলাফত রক্ষা এবং গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির তুরস্ক সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি গোঁড়া সাম্প্রদায়িক আন্দোলন হিসেবে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়। আলী ভ্রাতৃদ্বয় মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ , ড. এম.এ আনসারী ও হসরত মোহানীর নেতৃত্বে এ আন্দোলন সূচিত হয়। উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রাদেশিক শাখার বিধানসহ বোম্বাই শহরে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি গঠিত হয়।শেষ পর্যন্ত তুর্কিদের কাছ থেকেই আসে খিলাফত নেতৃবৃন্দের বহিরানুগত্যের প্রতি চরমতম আঘাত। তুর্কি জাতীয়তাবাদী নেতা মোস্তফা কামালের চমকপ্রদ সেক্যুলার রেনেসাঁ, হানাদার গ্রিক বাহিনীর ওপর তাঁর বিজয় এবং পরিণামে ১৯২২ সালের নভেম্বর মাসে সালতানাতের বিলুপ্তি ও ১৯২৩ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্কের প্রজাতন্ত্রে রূপান্তর, ১৯২৪ সালের মার্চ মাসে খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটায় খিলাফতীদের মোহভঙ্গ হয়। এরপর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্বহীন অবস্থায় ১৯২৪ সালে খিলাফত আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে। পরিশেষে বলা যায় যে, খিলাফত আন্দোলনের গুরুত্ব রয়েছে।