স্বদেশী, অসহযোগ ইত্যাদি ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে ভারতীয়দের মধ্যে প্রকৃতপক্ষেই ব্যাপক সচেতনতার সৃষ্টি হয়, যাতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তীব্রতা পায়।
প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি দেখিয়ে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন । তবে এর পেছনে বাঙালির ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যই প্রধান ছিল কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন। কংগ্রেস দলও এ দৃষ্টিকোণ থেকেই বঙ্গভঙ্গ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় ও এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। শীঘ্রই এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়। কংগ্রেস ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বয়কট বা বর্জননীতি ঘোষণা করে। বিলেতি অর্থাৎ ইংল্যান্ডসহ বিদেশে তৈরি পণ্য বর্জন করার ডাক দেওয়া হয়। এ আন্দোলন ক্রমশ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশি পণ্য কেনার প্রতি তাগিদের কারণে এটি স্বদেশী আন্দোলন হিসেবে পরিচিত হয় যা ইংল্যান্ডের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের ওপর আরেকদফা চাপের সৃষ্টি করে।
পরিশেষে বলা যায়, স্বদেশী, অসহযোগ ইত্যাদি আন্দোলনের কারণে ঔপনিবেশিক ভারতে ব্যাপক গণসচেতনতার সৃষ্টি হয় এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে।