এ সকল বৈষম্যই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে- তোমার মতামত দাও।
উত্তর: যে এ সকল বৈষম্যই অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিয়া শাসকগোষ্ঠীর সকল বৈষম্যমূলক আচরণই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে বলে আমি মনে করি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হবার পর থেকেই বাঙালি জনগণ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক প্রভৃতি নানা প্রকারের বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি স্বৈরশাসকগণ বাঙালির রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে। ১৯৫২ সালে বাঙালি জনগণ তাদের ভাষার অধিকার ফিরে পায়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্টের সরকারকে বরখাস্ত করে পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরশাসকগণ। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রকাশিত পাকিস্তানের বাজেটে পূর্ব বাংলাকে পিছিয়ে রাখার গুপ্ত পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্পসহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে পূর্ব বাংলা অনেক এগিয়ে থাকলেও বাজেট বরাদ্দে পূর্ব বাংলাকে পিছিয়ে রাখা হয়। ফলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় পূর্ব বাংলার মানুষের কণ্ঠে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফায় উক্ত বৈষম্য কমিয়ে আনার দাবি ছিল। ছয় দফার পাশাপাশি ছাত্রসমাজও ১১ দফার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তান সরকারের সীমাহীন বৈষম্যের অবসানের দাবি জানায়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শাসনের বিশ্বাসী পশ্চিম পাকিস্তান বৈষম্য নির্মূলকরণ আন্দোলন পুলিশী নির্যাতনের মাধ্যমে বন্ধ করতে চাইলে বাংলার মানুষ স্বাধীনতার আন্দোলনে এক দাবি নিয়ে মাঠে নামে। পরিণামে আসে একাত্তর। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানকে সকল বৈষম্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়। তাই বলা যায়, এসব বৈষম্যই পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের জন্য দায়ী।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
এ সকল বৈষম্যই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে- তো…
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর