স্বাধীনতার অভ্যুদয়ের ইতিহাসে উক্ত ঘোষণার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রভাব ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ— উক্তিটি যথার্থ। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একটি ভাষণ জাতিকে কতটা উদ্দীপ্ত করতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। বলতে গেলে এ ভাষণের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে যে অসহযোগ আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছিল, তা থেকেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সূচনা । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলনের সূচনা হয়। কলকারখানা, ব্যাংক, স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায় । বাঙালি জাতি সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তুলেছিল । মুক্তিকামী জনতা পাকিস্তানি বাহিনীকে বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকলে ১৩ মার্চ সামরিক শাসন জারি করা হয়। ১৪ মার্চ পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো একটি অবাস্তব প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ফর্মুলা দেন। বঙ্গবন্ধু জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর ১৫ মার্চ থেকে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক হয়। অবশেষে গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন । আর সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। বাঙালি জাতি এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। অবশেষে সূচনা হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের। এভাবে দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় । পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অপরিসীম।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
স্বাধীনতার অভ্যুদয়ের ইতিহাসে উক্ত ঘোষণার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।
উদ্দীপক
হলিক্রস কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর