উক্ত আন্দোলন তথা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অপরিসীম।প্রথমত, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে পূর্ব পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। দ্বিতীয়ত, এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনমনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে এবং গণদাবির মুখে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তিদানে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সরকার। তৃতীয়ত, এ আন্দোলনের ফলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা হয়। শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য আইয়ুব খান গোল টেবিল বৈঠক আহ্বান করতে বাধ্য হন। চতুর্থত, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও এর সামরিক-বেসামরিক আমলা জনগণের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। পঞ্চমত, এ আন্দোলনের ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং পরবর্তী সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। সর্বোপরি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আগরতলা মামলার আসামিদের মুক্তি, সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন, বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা পায়।