উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা আমার পাঠ্যবইয়ের উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।আইয়ুব খান সরকারের দমননীতি, শোষণ-নিপীড়ন ও নির্যাতন পূর্ব পাকিস্তানিদের বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। ছয় দফার মধ্যে বাঙালিরা তাদের স্বায়ত্তশাসন দাবির পূর্ণরূপ দেখতে পায়। কিন্তু আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় আন্দোলন দমন করার জন্য আগরতলা মামলা দায়ের করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেন। এরপর পূর্ব পাকিস্তান প্রবল গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় বাংলার অকুতোভয় ছাত্রসমাজ ১১ দফা নিয়ে এগিয়ে এলে গণবিক্ষোভ গণবিস্ফোরণে রূপান্তরিত হয়। আন্দোলনের গতিবেগ বুঝে মওলানা ভাসানী তার নীরবতা ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। পূর্ব পাকিস্তানের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি এক কাতারে শামিল হয়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবি করে। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্রদের ১১ দফাকেন্দ্রিক আন্দোলনের মিসিলে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের ছাত্র আসাদ। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। এই তিন হত্যাকাণ্ডের পর পূর্ব বাংলাসহ সমগ্র পাকিস্তানে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্য নিরসনে সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে পড়ে, আন্দোলন শুরু করে। ছাত্রদের দমনের চেষ্টা করলে অনেক ছাত্র 'গুলিতে শহিদ হয়। পরবর্তীতে স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনার সাথে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।