কাদেরের চেতনা অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল বলে আমি মনে করি। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘ দিন পর হিন্দু- মুসলিম সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামক বৃহৎ রাজনৈতিক দল তাদের দলের নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন ।
ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে মুসলিম লীগের মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও দ্বি- জাতিতত্ত্বভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলে। এ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই ষাটের দশকে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রেরণা জোগায়। আর এ আন্দোলন সমাজের রক্ষণশীলতার বাঁধ ভেঙে এক নতুন সমাজ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল। আর এ আন্দোলনের জোয়ারে অনেক উদারপন্থি মুসলিম লীগের নেতা ও কর্মী ভাষা আন্দোলন ও আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। ভাষা আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক দল, ছাত্র ইউনিয়ন, মুসলিম লীগ বিরোধী জোট গঠন করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক লীগ, নেজামে ইসলাম, খেলাফত-ই-রাব্বানি মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে। অধিকন্তু এ আন্দোলনের ফলে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এ আন্দোলনই বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের প্রেরণা যুগিয়েছিল।
সুতরাং ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালি বিভিন্ন আন্দোলন সর্বোপরি স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।