হ্যাঁ, উক্ত বৈষম্য শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল বলে আমি মনে করি।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে বাঙালি জনগণ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভৃতি নানাপ্রকার বৈষম্যের স্বীকার হতে থাকে। তৎকালীন পাকিস্তানে সরকারি চাকরি বাঙালিদের জন্য ছিল সোনার হরিণ। ১৯৪৭ সালে করাচিকে রাজধানী করায় সরকারি, অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপক হারে চাকরি লাভ করে। বলার অপেক্ষা রাখে না পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। সরকারের সব দপ্তরের সদর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বাঙালির পক্ষে সেখানে গিয়ে চাকরি লাভ করা সম্ভব ছিল না। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাঙালি ছাত্রদের সাফল্য সহজ ছিল না। যার ফল হিসেবে বাঙালিরা অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে পড়ে। পাকিস্তান সরকারের এই সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালিরা যখনি আন্দোলন করেছে, তখনি তাদের উপর চালানো হয়েছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। নির্যাতনের মাধ্যমে বৈষম্য নির্মূলকরণ আন্দোলন বন্ধ করতে চাইলে বাংলার মানুষ স্বাধীনতার আন্দোলনের নামে এবং ১৯৭১ সালে যুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের সকল বৈষম্যের জবাব দেয়।
সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক বৈষম্য, সামরিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক বৈষম্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও সামাজিক বৈষম্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈষম্য শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল।