মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। শুধুমাত্র একটি সংগঠিত বাহিনী বা নেতৃত্বের মাধ্যমে নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, নারী. ও বৃদ্ধ সবাই কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অনেকেই সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, আবার কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আশ্রয়, চিকিৎসা ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি মানুষ পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধভাবে লড়াইয়ের অবতীর্ণ হয়। বিশেষ করে নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও ওষুধ সরবারাহ করেছে আবার অনেকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধারাও নানা দুৎসাহসিক কাজে যুক্ত ছিল, যেমন- বার্তা পৌঁছানো, শত্রুপক্ষের অবস্থান জানানো ইত্যাদি। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া এই জনযুদ্ধেই মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, মুক্তিকামী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ছিল স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি।