বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির বার্তা— উক্তিটি যথার্থ ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। সেসময় জনগণ অধীর আগ্রহে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের অপেক্ষা করছিল। তারা আর ঘরে ফিরে যেতে প্রস্তুত ছিল না। ততদিনে তাদের মনে স্বায়ত্তশাসন নয়, বরং স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠেছে। তারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত হয় ।
৭ মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জাহাজ ও বিমানযোগে সৈন্য ও অস্ত্র আনতে থাকে। প্রতিটি ক্যান্টনমেন্টে কৌশলে বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। জনগণও বিভিন্ন জায়গায় সামরিক যান চলাচলে বাধা দেওয়া শুরু করে। সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার ও সৈনিকগণ ৭ মার্চের ভাষণের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ১৯ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জয়দেবপুরে বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্র করতে আসছে শুনে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সর্বোপরি এ ভাষণের পর প্রত্যেক জেলা, থানা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে উঠতে থাকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ভাষণই স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়েছে বারবার। এই 'একটি ভাষণই পুরো জাতিকে দীর্ঘ ৯ মাস ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে প্রবল মানসিক শক্তি যুগিয়েছে। এ ভাষণটি ছিল বাঙালির প্রতিরোধ ও মুক্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত সংগ্রামের দিকনির্দেশনা ।
পরিশেষে বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করে। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে জায়গা করে নেয় আমাদের বাংলাদেশ। সুতরাং বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির বার্তা—উক্তিটি যথার্থ।