উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সাথে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে রূপনগর ও স্বপ্নপুরী এলাকার জমিদার মহারাজা অশোক চৌধুরী তার নিজ গ্রাম রূপনগরকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। স্বপ্নপুরী এলাকার ফসল রপ্তানি করে যে অর্থ পায় তা দিয়ে রূপনগরে কলকারখানা বাণিজ্য ও রাস্তাঘাট গড়ে তোলে । এই ঘটনার সাথে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের মিল রয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করে। বাঙালিরা অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে পড়ে। এছাড়াও সরকারি আয়, ব্যয়, বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন ব্যয়, নতুন শিল্প সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলাকে পিছিয়ে রাখা হয়। এর একটি উদাহরণ হলো ১৯৫৫-১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯-১৯৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেট বরাদ্দের মাত্র ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-১৯৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮ কোটি টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ কোটি টাকা। পূর্ব বাংলায় উৎপন্ন পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ, অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।