উক্ত বৈষম্যই অর্থাৎ অর্থনৈতিক বৈষম্য স্বাধিকার আন্দোলনের কারণ ছিল না। এর পিছনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈষম্যও কম দায়ী ছিল না। নিচে এসব বৈষম্যের প্রতিক্রিয়ায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বিষয়টি তুলে ধরা হলো-
বাঙালি লড়াকু জাতি। মুঘল, ব্রিটিশ আমলে বাঙালি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণও বাঙালি জাতি কখনো মুখ বুজে সহ্য করেনি। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করে। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগকে পরাজিত করে এতে বাঙালি প্রথমবারের মতো স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ পায় । আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্ররা শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ষাটের দশকে সাহিত্য সম্মেলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব বিরোধী তৎপরতা চালানো হয়। ১৯৬১ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী, পালন উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটে। একই বছর 'ছায়ানট' নামের সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হলে বাঙালির সংগীত চর্চা ও বিভিন্ন উৎসব পালনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। পুরো ষাটের দশক জুড়ে চলে সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের আন্দোলন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফার দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণসহ বাঙালি নিজেদের দেশ চালানোর পরিকল্পনা পেশ করে। বাঙালির এ দাবি সরকার প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় ছয় ও এগারো দফাভিত্তিক আন্দোলন। ছয় দফার বাস্তবায়নে বাঙালি জনগণের আন্দোলনে পুলিশ নির্যাতন শুরু করে ছয় দফাই এক দফায় পরিণত হয়। আর তা হলো স্বাধিকার বা স্বাধীনতা। তাই বলা যায়, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যও অধিক পরিমাণে দায়ী ছিল।