হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রক্রিয়ার অনুরূপ—এ বিষয়ে আমি একমত পোষণ করছি।
উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদানের তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের বৃহৎ অংশ সুদানের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে ব্যয় হতো। ফলে দক্ষিণ সুদানের লোক তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রক্রিয়ার অনুরূপ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ১৯৪৭ সালের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি নানা বৈষম্যমূলক আচরণ প্রদর্শন করে আসছিল। ১৯৬২-৬৫ সালের দিকে এসে এ বৈষম্যের মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করে। প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। এসব বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ১৯৬৬ সালে ১৩ মার্চ, আওয়ামী লীগের ওয়াকিং কমিটিতে এ দাবি গৃহীত হবার পর তিনি দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। তিনি ছয় দফাকে আমাদের বাঁচার দাবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ফলে এ দাবির পক্ষে দ্রুত জনমত গড়ে ওঠে। আইয়ুব সরকার তাতে আতঙ্কিত হন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় দফার জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। তবে শাসকবর্গ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অনীহা প্রকাশ করে। অতঃপর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় । এভাবে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।