এরূপ বৈষম্য সমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল - নিম্নে উক্তিটির বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো : ১৯৪৭ সালে এই তৎকালীন ভারতবর্ষ থেকে দুটি নতুন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটি ভারত এবং অপরটি পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের দুটি অংশ - পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার উপর সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করতে থাকে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় । যার ফলে নিজেদের রাষ্ট্রভাষা আদায়ের জন্য ভাই এবং ১৯৫২ সালে বুকে তাজা রক্ত জরায় বাঙালিরা। আবার ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পরেও তাদেরকে কিছুদিনের মধ্যে বরখাস্ত করে। সকল খাতেই পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরূপ বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও ১৯৬৯ সালে সামরিক শাসন জারি করে পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। বাঙালির অধিকার আদায়ের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি প্রস্তাব করেন তখনও সেটি মানা হয় নি। এর উপর নানাবিধ বৈষম্যের ফলে বাঙালিরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের শুধুমাত্র শোষণ করতে চায়। যার ফলে দিন দিন বাঙ্গালীদের ক্ষোভ জমতে থাকে। আর এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আপামর বাঙালির ঝাপিয়ে পড়া ও দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আতাই বলা যায়, এরূপ বৈষম্য সমূহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল - উক্তিটি যথার্থ। না।