শহিদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করে তোলে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: শহীদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করেছে- উক্তিটি যথার্থ। খাজা নাজিমউদ্দীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর ঘোষণা করেন যে, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।' এর প্রতিবাদে ছাত্র, শিক্ষক, জনতা, গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একপর্যায়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি ও সকল মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ছাত্র সমাজ তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিবর্ষণে শহিদ হন রফিকউদ্দিন, আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, শফিউর রহমান সহ অনেকে। ফলে এ ঘটনা অগ্নিস্ফুলিজা হয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কেবলমাত্র ঢাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের প্রতিটি শহরে, যেমন-চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, যশোর, সাতক্ষীরায় ব্যাপক আন্দোলনের বিস্তার ঘটায়। মূলত ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, বাংলা ভাষার চর্চা বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্তরের আন্দোলনের প্রেরণা ও সূতিকাগার ছিল ভাষা আন্দোলন। মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে মর্যাদা দান করায় ভাষা আন্দোলন আজ তাৎপর্যমণ্ডিত।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
শহিদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করে তোলে- বিশ্লেষ…
উদ্দীপক
Dhaka · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর