অনুরূপ একটি যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী চেতনা প্রবলভাবে জাগ্রত হয়- উক্তিটি যথার্থপাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। এর কারণ যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এ অঞ্চলে প্রতিরক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর ন্যূনতম অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল না। ভারত ইচ্ছা করলে যেকোনো মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতে পারত। পূর্ব পাকিস্তানি জওয়ানরা জীবন বাজি রেখে পাঞ্জাবের লাহোর শহর রক্ষা করলেও পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের ন্যূনতম নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এমনকি যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানসহ গোটা পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেড়ে যায়। তখন কেবল সামরিক দিক নয়, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও পূর্ব পাকিস্তানের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ফলশ্রুতিতে পূর্ব-পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী চেতনা প্রবলভাবে জাগ্রত হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে ৬ দফা দাবি উত্থাপিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত হয়ে পরলে পূর্ব-পাকিস্তানে 'আইয়ুব বিরোধী চেতনার জাগরণ হয়।