উদ্দীপকের মামলার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সামঞ্জস্য রয়েছে।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক নীতি এদেশের মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিভা ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলে নিপীড়িত ও নিঃগৃহীত সামরিক বাহিনীর তরুণ সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। ফলে বঙ্গবন্ধু তাদের সাথে আলাপকালে সশস্ত্র বিপ্লবের কথা চিন্তা করেন। এর কিছুদিন পর শেখ মুজিবুর রহমান গোপনে ত্রিপুরা ভ্রমণ করেন এবং তৎকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র 'লাল সিংহের সাথে আগরতলায় এক বৈঠকে মিলিত হন। ঐ বৈঠকের মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র আন্দোলনে সাহায্য কামনা করেন। অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীতে বাঙালি অফিসাররা সশস্ত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু শীঘ্রই তা পাকিস্তান গোয়েন্দা বাহিনীর নিকট প্রকাশ পেয়ে যায়। সশস্ত্র বিপ্লবের ঘটনা প্রকাশ হয়ে গেলে সমগ্র পাকিস্তানে প্রায় দেড় হাজার বাঙালি গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন।উদ্দীপকে আমরা দেখি যে, রবিন সাহেব প্রতিবছর চেয়ারম্যান নির্বাচনে নির্বাচিত হতো কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী সালাম হেরে গেলে, বিভিন্ন মিথ্যা 'মামলা করত এবং রবিন সাহেবকে জেলও খাটতে হয়েছে। অনুরূপভাবে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে 'বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জন সামরিক-বেসামরিক বাঙালির নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং গ্রেফতার করেছিল।"সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলার সাদৃশ্য রয়েছে।