মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকাই মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির প্রতি বিশ্বব্যাপী যে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল তা ছিল বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকার ফল বা কূটনৈতিক তৎপরতার ফল। মুজিবনগর সরকার বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বহির্বিশ্বের সমর্থন ও জনমত আদায়ের চেষ্টা করে। এ সময় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ অন্যান্য শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করা হয়। সরকারের প্রচেষ্টায় একে একে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকগণ পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের প্রতি সমর্থন দান করে। এছাড়া এ সরকার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন 'অ্যাকশন কমিটি' এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করে 'বাংলাদেশ ফান্ড' নামে তহবিল গঠন করে। এ সরকারের প্রচেষ্টার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) ও ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে ও যুদ্ধজয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। অবশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বজনমত গঠনে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এর ফলেই সাংগঠনিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছিল, যার সফল পরিণতি স্বাধীন বাংলাদেশ।