"বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে একটি দুর্বল দেশে পরিণত করাই ছিল তাদের অর্থাৎ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অপতৎপরতার প্রধান লক্ষ্য" উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেলে পাকিস্তানি বাহিনী রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে দ্রুত হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে শুরুতেই মেধাশূন্য করে ফেলা, যাতে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। জাতির সূর্যসন্তানদের তারা অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। মূলত আল বদর, আল শামস, শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে বিভিন্ন অত্যাচার, লুট, হত্যা ও নির্যাতন চালায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ যাতে যুদ্ধ পরবর্তীকালে বুদ্ধিবৃত্তির দিক দিয়ে একটি দুর্বল ও অক্ষম জাতিতে পরিণত হয় সে লক্ষ্যে তারা এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকসহ বহু বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা যথার্থ বলে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তির দিক দিয়ে একটি দুর্বল দেশে পরিণত করাই ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য।