উদ্দীপকের সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ব্যবস্থাপনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে, রতনপুরে ভয়াবহ বন্যার পর ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য গ্রামের সবাই গ্রামটিকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে নেমে পড়ে। উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার নিমিত্তে সেক্টর ব্যবস্থাপনার সময়ও ঘটেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলা বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর শুরু হলে এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বাঙালিরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। দেশকে রক্ষাকল্পে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, ছাত্রসহ রাজনীতিবিদদের সহায়তায় বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাঙালি অফিসাররা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এমতাবস্থায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সমন্বয়ে ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। এ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ১৭ এপ্রিল। এ সরকার প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেন এম.এ.জি ওসমানীকে। তাছাড়া বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে সীমানা চিহ্নিত করার পাশাপাশি একজন কমান্ডারের অধীনে প্রতিটি সেক্টর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সেক্টরে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত এলাকায় এবং ভারত সরকারের সহায়তায় প্রশিক্ষণ লাভ করে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচ্য উদ্দীপকেও আমরা বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গ্রামটিকে বিভিন্ন অংশে ভাগ হতে দেখেছি। যা মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর বিভক্তের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।