মি. 'ক'-এর স্মরণীয় অনিয়মিত বাহিনী যা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়েছিল তা প্রকৃত অর্থেই ছিল অনিয়মিত-উক্তিটি যথার্থ। কেননা, মুক্তিযুদ্ধের সময় যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের। মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে এ বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল গণবাহিনী বা এফ.এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে তাদের নিজ নিজ এলাকায় যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এ বাহিনীর জন্য কোনো সামরিক আইন কার্যকর। ছিল না। অনিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের কোনো বেতনভাতা দেওয়া হতো না। অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার। উল্লিখিত বাহিনীর বাইরে আরও কয়েকটি অনিয়মিত বাহিনী ছিল। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে এসব। গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শেখ। ফজলুল হক মনির নিয়ন্ত্রণাধীনে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী। এ বাহিনীর * সদস্যদের সকলে ছাত্রলীগের সদস্য। তন্মধ্যে আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আসম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখেরা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ছিল ৬০০০। এছাড়া ন্যাপ (মোজাফফর) কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব দলীয় বাহিনী ছিল। এসব বাহিনীর পাশাপাশি কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন ১ (ভালুকা-ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ- বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। এসব বাহিনীর কর্মকান্ড ছিল স্বেচ্ছাসেবক, স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কাগজে-কলমে তারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হতো। সুতরাং সার্বিকভাবে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত অনিয়মিত বাহিনী ছিল প্রকৃত অর্থেই অনিয়মিত।