মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার জনগণের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের দায়বদ্ধতা- তোমার মতামত দাও।
উত্তর: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার জনগণের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের দায়বদ্ধতা- কথাটি শতভাগ সঠিক। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলোঃবাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের, ধর্মের, গোত্রের মানুষের বসবাস। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকও রয়েছে দেশটিতে। নানাবিধ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ ও দ্বন্দ্বের অবকাশ দেখা যায়। মতবিরোধ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত স্বাধীনতাবিরোধী কোনো সংগঠনের পক্ষে কোনো বাঙালি কথা বলে না।যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতেও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ এক প্ল্যাটফরমে চলে আসে। একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানিরা যুদ্ধাপরাধের পাশাপাশি গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে। তখনকার সময়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে গণহত্যার বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বিষয়গুলো তেমন আলোচনায় উঠে আসত না। অবশ্য জান্তা সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের মতো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রকৃত ঘটনা থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে কাজ করেছিল। ১৯৭১ সালে নাগরিকত্ব, জাতীয়তা, বর্ণ ও ধর্ম পরিচয়ই যুদ্ধের অসহায় শিকারদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নারী ও শিশুরাও পাকিস্তানি সেনা ও দোসরদের ধ্বংসের দামামা থেকে রক্ষা পায়নি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবেই বাঙালিদের নৃতাত্ত্বিক ও জাতিগত পরিচয়কে ধ্বংস করার নিশানা গ্রহণ করে দেশব্যাপী চষে বেড়িয়েছে। বাঙালির দীর্ঘকালের সংস্কৃতি ও সভ্যতার আবরণকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সুতরাং যে সকল দোসর ও তাদের শাসিত সংগঠন পাকিস্তানিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিল, প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি করার দাবি এ দেশীয় জনগণের।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার জনগণের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারে…
উদ্দীপক
Comilla · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর