"এ ধরনের সরকার গঠনের পরই বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত এ ধরনের সরকার বলতে মুজিবনগর সরকারকে বোঝানো হয়েছে। আর মুজিবনগর সরকার গঠনের পরই বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর ১৭ এপ্রিল তারা শপথ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মুজিবনগর সরকারের কর্মতৎপরতায় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া বেশকিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়। এসব বাহিনীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন। প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। আর মুক্তি বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল অনিয়মিত বাহিনী হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল। এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাগণ মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন। অনেকেই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অতএব এটি প্রমাণিত, মুজিবনগর সরকার গঠনের পরই বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
HSC History 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 1st Paper · সৃজনশীল
"এ ধরনের সরকার গঠনের পরই বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর