উদ্দীপকের মতো আমার পাঠ্যবইয়ের ভারত প্রধানত বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্ববহ।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সহায়ক ভুমিকা হিসেবে কাজ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষত প্রিন্ট মিডিয়া ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র তখন পাশে ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে। এছাড়াও বিদেশি সাংবাদিকগণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধের লেলিহান শিখা ও কাহিনি ছড়িয়ে দেন। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের মুজিবনগর থেকে সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পত্রিকাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে মুক্তাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা ও সংবাদ সাময়িকী মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। ভারতীয় প্রচার মাধ্যম স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা এবং নিরীহ বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যায় আক্রমণ ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালিয়েছিল।শুধু তাই নয়, মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা শক্তিবর্গকে পাকিস্তানের পর্যায়ক্রমিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবং বিশ্ব জনমত গঠনের ক্ষেত্রে ভারতের সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের শরণার্থীদের দুর্দশা, মুক্তিযুদ্ধের তৎপরতা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের নিদর্শনসমূহ দেখানোর ব্যবস্থাও করেছিল। এভাবে নানাবিধ তৎপরতার মাধ্যমে ভারতীয় প্রচার মাধ্যম আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়েছিল।উদ্দীপকে দেখা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা এবং প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা রেখেছিল।