বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আশ্রয়দানকারী দেশটি তথা ভারত বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় বাঙালি শরণার্থীদের আশ্রয়দান, যুদ্ধের প্রশিক্ষণসহ অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ এবং বহির্বিশ্বে পাকিস্তানি বর্বরতার ভয়াবহতা প্রকাশে ভারত সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। দেশটির প্রত্যক্ষ সহায়তা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”— এই চিরন্তন বাক্যটির প্রতিফলন আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সীমাহীন ত্যাগের মধ্যে প্রতিভাত হয়ে উঠেছিল। এ সময় ভারত সরকার পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বাঙালি নিধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, বরং বাঙালি শরণার্থীদের আশ্রয় দানে এগিয়ে এসেছিল। ভারতের সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমগুলোও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নিধনের সংবাদ প্রচারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় প্রচারমাধ্যমের সংবাদ দ্রুত বহির্বিশ্বে প্রচার হলে বিশ্ব জনমত সোচ্চার হয়ে উঠে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। বাঙালি শরণার্থীদের চাপে ভারত সরকার দিশেহারা হয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি উত্থাপন করে। কিন্তু পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গণচীনের বন্ধুরাষ্ট্র হওয়ায় জাতিসংয়ের নেতিবাচক ভূমিকায় ভারত সরকার মর্মাহত হয়। বাংলাদেশে পাকহানাদার বাহিনীর নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে ভারত পাকহানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের বীভৎস ঘটনা প্রচার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতে পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড, গঠন করে। এদিন ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তী ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মোড় ঘুরে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে এবং নানাভাবে সহযোগিতা করে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত আমাদের কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।