উদ্দীপকের ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি শরণার্থীদের প্রতি ভারতের দেওয়া মানবিক সহায়তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের ভূমিকা বিশেষভাবে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে সে দেশে আশ্রয় দেয়। এ সময় ভারত নিজেই অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত থাকলেও দীর্ঘ নয় মাস ধরে শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশি শরণার্থীদের আশ্রয়দানের মানবিক চিত্রটি উদ্দীপকে লক্ষণীয় উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর ২৪ ঘণ্টাতেই ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে পোল্যান্ড, মলদোভা, রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ দশ লক্ষ ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দেয়। এ বিষয়টি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সহায়তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে হতবিহ্বল বাঙালিরা আত্মরক্ষার্থে ভারতীয় সীমান্তের দিকে ধাবিত হয়। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে ভারত সরকার তৎক্ষনাৎ সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। পাকিস্তানি বর্বরতার হাত থেকে রেহাই পেতে হাজার হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। জুন থেকে পাকিস্তানি নৃশংসতা এত বৃদ্ধি পায় যে, প্রতিদিন গড়ে এক লক্ষ লোক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ফলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় কোটিতে গিয়ে পৌঁছে। ভারত সরকারের নির্দেশে ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, পশ্চিম বাংলায় শরণার্থী শিবির খোলা হয়। তারা লঙ্গরখানা স্থাপন করে বুভুক্ষু মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি শরণার্থীদের আশ্রয়দানে ভারত সরকারের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।