উদ্দীপকের মতো আমার পাঠ্যবইয়ের ভারত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গ্রেটবৃটেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছিল। যেমন—
ভারত : ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে । ভূটান ও ভারত ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারান।
সোভিয়েত ইউনিয়ন : সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগর্নি বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। তাছাড়া ৩রা ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধ বিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উদ্দেশ্য ছিল যৌথ বাহিনী যাতে সামরিক বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পায় এবং তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হয়।
গ্রেটবৃটেন : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বৃটেনের প্রচার মাধ্যমগুলো বাঙালিদের ওপর পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিশ্ব জনমত জাগ্রত করে তোলে । তাছাড়া লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত সংগীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন কর্নসাটের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য 'সাহাজ্যের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। ইরাক বাংলাদেশের মুজিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়।