মিত্র দেশগুলোর অর্থাৎ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থানকারী দেশগুলোর সহযোগিতা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত এবং পরবর্তী সময়ের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এসব দেশের সরকার মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। তবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভারতের।
ইংল্যান্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গঠনের মূলকেন্দ্র। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে সাহায্য করে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্র বাংলাদেশের 'মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ব্যক্ত করে। সে সময় ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক শাসন চলছিল। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল সেদেশের অসংখ্য ছাত্র সামরিক বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে বাংলাদেশে গণহত্যার বিরুদ্ধে মিছিল করে। ইন্দোনেশিয়ার টেলিভিশন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি খন্দকার মোশতাক আহমেদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। এমনকি কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানায়। মার্কিন প্রশাসনের বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল I
অতএব বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।