উদ্দীপকের মত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা একই রকম ছিল না। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষা ও কার্যকর করার জন্য জাতিসংঘ কাজ করে থাকে। বর্তমানে ক ও খ রাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের জন্য উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে জাতিসংঘ। এছাড়াও যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে। তবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাতিসংঘ এরকম উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা রাখেনি। ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালিদের উপর তীব্র হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়, তখন জাতিসংঘ এক রকম নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। এই ধরনের নারকীয় হত্যাকাণ্ড, মৌলিক মানবাধিকার লংঘন ইত্যাদির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। মূলত সেই সময়ে ভেটো প্রদানকারী পাঁচটি বৃহৎ শক্তির বাইরে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করার ক্ষমতা খুবই সীমিত ছিল, যার ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাকান্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোন উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়নি। তবে মানবিক বিপর্যয় সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও মুজিবনগর সরকারের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সকল বৈধতা থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জাতিসংঘ মুজিবনগর সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা একই রকম ছিল না। তখন জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক।