বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবার ভেটো প্রদান করে বাতিল করে দেয় । কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো . বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়। গ্রেট ব্রিটেনসহ অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচারমাধ্যমগুলো পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। কিন্তু 'ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আমাদের পক্ষে জাতিসংঘে তিনবার ভেটো প্রয়োগ, অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ ও মার্কিনীদের পাঠানো সপ্তম নৌবহরের বিপক্ষে নৌবহর পাঠিয়ে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।