অতি দ্রুত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর পুনর্বাসন বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি বড় সফলতা”–কথাটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলোঃমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ২ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এদিন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মুজিবনগরে সাংবাদিকদের বলেন, 'বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া সব শরণার্থীকে সসম্মানে নিজ নিজ বাস্তুভিটায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রিসভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার খুব ভালো করেই জানে, শরণার্থীদের ফেলে আসা সব সম্পত্তি পাকিস্তানের সামরিক জান্তা দখলে নিয়েছে। তাই শত্রুসেনার কবলমুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরণার্থীরা তাদের ন্যায্য মালিকানা ফিরে পাবেন।'অন্যদিকে, প্রবাসী বাঙালি ও বিশ্ববাসীও এগিয়ে এসেছিলেন শরণার্থীদের সাহায্যে। সে দানও ছিল অপ্রতুল। তা সত্ত্বেও বলতে হবে, ভারত সরকার, ভারতীয় জনগণ, প্রবাসী বাঙালি, জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ যদি শরণার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে না আসতেন তবে ভারতের পক্ষে এককভাবে এ ভার বহন করা সম্ভব হতাে না ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর শরণার্থীরা দেশে ফেরা শুরু করে।পরিশেষে বলা যায় যে, অতি দ্রুত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর পুনর্বাসন বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি বড় সফলতা।