১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো। উক্তিটি যথার্থ।
কেননা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয়, খাদ্য ও বস্ত্ৰ সহায়তা এবং শেষ পর্যায়ে সামরিক বাহিনী সরবরাহ করে সাহায্য করে। ভারতের জনগণ স্বেচ্ছায় শরণার্থী কর প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান রাশিয়া। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান তিনি ইয়াহিয়াকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে তা বাতিল করে দেয় কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।
এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর সহায়তার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অতি দ্রুতই বাস্তবে পরিণত হয়। নচেৎ তা অনেক বেশি বিলম্বিত হতো তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।