টয়েনসির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের মিল রয়েছে।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাসহ নবাবের অদূরদর্শিতা, সরলতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব।
মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ছিল সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া তরুণ বয়সে সিরাজউদ্দৌলা মসনদে আরোহণ করেছিলেন বলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের তেমন কোনো সুযোগ পাননি। তাই তৎকালীন জটিল পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিরুপায় ও অসহায় । তিনি বিচক্ষণ হলে ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাত করে সংকট এড়াতে পারতেন। তাছাড়া যুদ্ধের অবস্থা যখন নবাবের অনুকূলে ছিল, সে সময় বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার অভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তিনি সাহস পাননি। এটি ছিল তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ। আর অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে সিরাজউদ্দৌলাকে প্রায়ই জগৎশেঠের মতো বিত্তবান লোকদের দ্বারস্থ হতে হতো। তাই এসব ব্যক্তির ষড়যন্ত্রমূলক কার্যাবলি সম্বন্ধে অবহিত থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ ছিলেন। তাছাড়া উর্মিচাঁদ, মানিকচাঁদ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ প্রমুখের ষড়যন্ত্রও নবাবের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।